# দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু আজ
# উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
# হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ডেঙ্গুতে ২
# সচেতনতার আহ্বান চসিক মেয়রের
সারা দেশে একসঙ্গে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হাম ও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি। হামের প্রকোপে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে শিশু, অন্যদিকে বর্ষা পেরিয়েও থামছে না এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর সংক্রমণ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় আজ শনিবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। এদিকে, সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত এক হাজার ১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৯১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দেশে গত একডিদনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৭৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সকল বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।
উপ-প্রেসসচিব জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।
প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে—এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ডেঙ্গুতে ২: সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত এক হাজার ১২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৯১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দেশে গত একডিদনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৭৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম ও ডেঙ্গু সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।
হাম সংক্রান্ত বার্তায় বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে একজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন মারা গেছে। এসময়ে দেশে ৩৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে এ পর্যন্ত ১০০ জন মারা গেছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৯১২ জন। নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ মৃত্যু ঢাকা বিভাগে। এর পরেই বরিশাল বিভাগে ১৯ জন।
এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪০৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপরই সিলেট বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ১৫৭ জনের। এছাড়া রাজশাহীতে ৯৩, চট্টগ্রামে ৬৮, বরিশালে ৫৭, ময়মনসিংহে ৭৭, খুলনায় ৩৮ ও রংপুর বিভাগে মারা গেছে ১৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৬৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়ালো এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জনে। তাদের মধ্যে এক লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছে। দেশে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে। আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৯৬৭ জন।
এদিকে, সারাদেশে গত একডিদনে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আরও ৭৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১ জন করে মোট ২ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ১ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী রয়েছেন।
একই সময়ে সারা দেশে নতুন ৭৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ২৪৯ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত)।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৬২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৬১ জন, খুলনা বিভাগে ৬০ জন, রংপুরে ৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৩ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নারী ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯,২২০ জনে। এর মধ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের এবং ছাড়পত্র পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫,৬৪৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩,৪৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মোট শনাক্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী হলেও মোট মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের হার বেশি, যা ৫২ দশমিক ১ শতাংশ।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার আহ্বান চসিক মেয়রের: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এজন্য নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল পতেঙ্গার কমিশনার ঘাটা, দক্ষিণ পাড়া ও বাটারফ্লাই রোড এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও নাগরিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি। চসিক মেয়র বলেন, তিন দিনে একদিন জমা পানি ফেলে দিতে হবে। নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচে ও নির্মাণাধীন ভবনে কোথাও পানি জমে আছে কি না, নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমছে। জমে থাকা পানিতে অল্প সময়ের মধ্যেই এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
চসিকের চলমান মশক নিধন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিটিআই পদ্ধতিতে ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তা জানাতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও ঠিকমতো ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না বা কোনো ধরনের গাফিলতি হচ্ছে- এমন অভিযোগ থাকলে আমাদের জানাবেন। ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ করা যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেয়র জানান, নগরের কোতোয়ালি, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, হালিশহর ও বন্দরসহ কয়েকটি এলাকা ডেঙ্গুর জন্য তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আমরা চাই আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গুতে আর একজন মানুষও যেন প্রাণ না হারান। এজন্য সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, চসিক নগরবাসীর পাশে আছে এবং থাকবে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সব নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই মিলে বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
এ সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

