Logo

আন্তর্জাতিক

ব্রিকসের ঐতিহাসিক নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র গৃহীত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:২৯

ব্রিকসের ঐতিহাসিক নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র গৃহীত

# জাতিসংঘ সংস্কার, যুদ্ধের নিন্দা ও নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের আহ্বান

# বহুপাক্ষিকতাবাদ ও শান্তিতে জোর

# যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য ও সব আগ্রাসনের নিন্দা

# মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠকে সংলাপ-নিরাপদ সমুদ্রপথে জোর

# ভারতের বাধায় ব্রিকসের দুয়ারে আটকে পাকিস্তান

# সম্মেলন ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা

ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র’ গৃহীত হয়েছে। ঘোষণাপত্রে ‘সব ধরনের যুদ্ধ পদক্ষেপের’ কঠোর সমালোচনা করার পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ (ইউএনএসসি) বিশ্বের বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ‘কাঠামোগত সংস্কারের’ দাবি এবং সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য পরিচালনায় জোর দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার আয়োজিত সম্মেলনের সমাপনী পর্বে জোটের এই যৌথ ঘোষণাপত্র উন্মোচন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নাবিকদের সুরক্ষা এবং বাণিজ্যিক নৌচলাচল নিরাপদ রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে ঘোষণাপত্রে।

নয়াদিল্লি ঘোষণায় আরও বলা হয়, ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্য দিন দিন নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনা করা উচিত।

সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে মোদি বলেন, ‘আজকের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, এই পরিবর্তনশীল বিশ্বকে কোনো সেকেলে প্রতিষ্ঠান দিয়ে চালানো সম্ভব নয়। বিশ্ব প্রতিনিধিত্ব, দায়িত্বশীলতা এবং নীতি-নিয়ম নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন অপরিহার্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং তা পরিচালনার নীতিমালা তৈরিতে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের সমান অংশীদারিত্ব থাকতে হবে।’

ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে জোর দিয়ে মোদি বলেন, ‘আজ গৃহীত এই নয়াদিল্লি ঘোষণা আমাদের যৌথ সংকল্পের এক স্পষ্ট রূপরেখা। এখন আমাদের মূল দায়িত্ব হলো এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবগুলোকে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করা।’

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয় এবারের সম্মেলনে। সংঘাত অবসানে সংলাপ ও কূটনীতিকেই একমাত্র পথ হিসেবে তুলে ধরা হবে ঘোষণায় বলে জানায় এনডিটিভি। সব সদস্য দেশকে একটি যৌথ ঘোষণায় একমত করাতে পারাকে ভারতের কূটনীতি এবং ব্রিকসের শেরপাদের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভারতের ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতপার্থক্যই আগে যৌথ ঘোষণা আটকে থাকার প্রধান কারণ ছিল। চলতি বছরের মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইরান ও ইউএইর মতবিরোধের কারণে যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু এবার সদস্য দেশগুলোকে রাজি করাতে পারাকে ভারতের কূটনৈতিক সক্ষমতার বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

শনিবার সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে জড়ো হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অন্যান্য নেতারা। সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটি তার প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল সন্ধ্যায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন মোদি। সম্মেলনে আগত সব রাষ্ট্রনেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান মোদি।

বহুপাক্ষিকতাবাদ ও শান্তিতে জোর: এই ঘোষণায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘কাঠামোগত হালনাগাদ’ এর আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে ‘একতরফরা যুদ্ধমূলক কর্মকাণ্ড’ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথগুলো ও নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্রিকস পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের, বেসামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনীতির আহ্বান জানিয়েছে। এই ঘোষণায় বিশ্ব বাণিজ্য, সরবরাহ শৃঙ্খল ও জ্বালানির প্রবাহ বজায় রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনের গাজার ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি মেনে চলা, অবাধ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এতে একটি দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধান ও ফিলিস্তিনের জন্য জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠকে সংলাপ-নিরাপদ সমুদ্রপথে জোর: নয়াদিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে সমুদ্রপথে অবাধ জাহাজ চলাচল, পণ্য পরিবহন এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি। গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন মোদি।

এনটিভি লিখেছে, দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক।

এর আগে ৩১ অগাস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে তাদের বৈঠক হয়েছিল। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নাবিকদের নিরাপত্তা এবং নিরাপদ সমুদ্রপথ নিশ্চিত করাও দেশটির অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

এনটিভি লিখেছে, বৈঠকে মোদি ইরানের ব্রিকস-সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের প্রেসিডেন্টের ভারত সফর এবং ব্রিকস কার্যক্রমে অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়েছে নয়াদিল্লি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ হিসেবে ভারত শুরু থেকেই ‘সংলাপ ও কূটনীতি’র ওপর জোর দিয়ে আসছে। একইসঙ্গে দেশটির জন্য জ্বালানি নিরাপত্তাও বড় উদ্বেগের বিষয়।

ব্রিকসে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্যের আহ্বান: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো একটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে ব্রিকসকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, বৈধ বাণিজ্য যেন কোনো একটি দেশ আর্থিক ব্যবস্থায় আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে ধরনের একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের বাধায় ব্রিকসের দুয়ারে আটকে পাকিস্তান: উদীয়মান আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক জোট ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য ৩ বছর আগেআবেদন করেছে পাকিস্তান, জোটের দুই প্রভাবশালী সদস্য চীন ও রাশিয়া ইসলামাবাদকে সবুজ সংকেতও দিয়েছে; কিন্তু শুধমাত্র ভারতের আপত্তির কারণে এ জোটের সদস্য হতে পারছে না পাকিস্তান। ২০২৩ সালে ব্রিকস জোটের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কাছাকাছি সময়ে আবেদন করেছিল মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও। গত তিন বছরে এই চারটি দেশ প্রাথমিক সদস্য থেকে স্থায়ী সদস্যে উন্নীত হয়েছে, কিন্তু পাকিস্তান এখনও প্রাথমিক সদস্যপদই পায়নি।

ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য ৩০টি দেশ আবেদন করেছে। এই ত্রিশ দেশের সারিতে পাকিস্তানও রয়েছে। তীব্র অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তান মূলত ব্রিকস জোটের সদস্যপদ চাইছে নিজেদের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে। পাকিস্তানের জাতীয় অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশিটির বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৭০ ভাগ। এছাড়া দিনে দিনে ব্রিকসের দক্ষিণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অর্থনৈতিক জোট হয়ে উঠতে থাকাও পাকিস্তানের সদস্যপদের আবেদনের অন্যতম কারণ।

জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার তথ্য অনুসারে ব্রিকসের সদস্যপদ না নিলেও ব্রিকস সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের (এনডিবি) ৫৮ কোটি ডলার সমমূল্যের শেয়ার কিনেছে পাকিস্তান।

ব্রিকসের সুবাদে লাভবান ভারত: ব্রিকস জোট বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসখ্যার ৪৯ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ব্রিকস জোটের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের নিজস্ব বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জোটভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান বৈশ্বিক দক্ষিণের এ প্রধান জোটে যোগ দিতে চায়। তিনি বলেছিলেন, ব্রিকসের ‘বেশিরভাগ’ সদস্যের সঙ্গে পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছে জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ব্রিকসে যোগ দিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয়তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”

তিনি বলেন, “আমরা এও আশা করি যে অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয়তার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্রিকস পাকিস্তানের আবেদনের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।”

রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পাকিস্তানকে সদস্যপদ পেতে সমর্থন দেওয়ার জন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়ায় রয়েছে দেশটি। বিশেষ করে রাশিয়ার কাছে সমর্থন চাওয়া হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো ও বেইজিংয়ের সমর্থন থাকার পরও ব্রিকসে পাকিস্তানের যোগদান এখনও আটকে আছে। কারণ জোটের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়মে ভারতের বিরোধিতাই ‘দুর্ভেদ্য বাধা’ হিসেবে কাজ করছে।

ব্রিকসের নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ সদস্য বা অংশীদার দেশ হিসেবে নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে বর্তমান সব সদস্য দেশের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। 

এর আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-ইরান সম্পর্ক ও পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পশ্চিম এশিয়া সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতিকেই সামনে এগোনোর পথ হিসেবে জোর দিয়ে আসছে ভারত। একইসঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করে সরবরাহবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

এদিকে, এই সম্মেলন কেন্দ্র করে শহরটিজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিশ্বনেতাদের যাতায়াতের পথসহ গুরুত্বপূর্ণ ও ভিভিআইপি এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়।

সম্মেলন ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্বনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উচ্চপ্রযুক্তির বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন করেছে। সেখান থেকে রাজধানীর সার্বিক পরিস্থিতি ও বিশ্বনেতাদের গাড়িবহরের গতিপথ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন