Logo

জাতীয়

ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল নিশ্চিতে খোলা তেলের বাজারজাত বন্ধের দাবি

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৫, ১৭:০৩

অ
ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল নিশ্চিতে খোলা তেলের বাজারজাত বন্ধের দাবি

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’ সমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেল নিশ্চিত করতে খোলা ড্রামে তেল বাজারজাতকরণ বন্ধ ও মানসম্মত প্যাকেজিংয়ের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

তারা বলেন, সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু বর্তমানে খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল বিক্রি এই প্রচেষ্টার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীতে আয়োজিত এক সাংবাদিক কর্মশালায় এই মন্তব্য করেন তারা।  

‘সবার জন্য ভিটামিন সমৃদ্ধ নিরাপদ ভোজ্যতেল: অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ২৬ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপ ২০১১-১২ অনুযায়ী, প্রাক্‌-বিদ্যালয়গামী প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন ভিটামিন ‘এ’ এবং দুইজন শিশু ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতিতে ভুগছে। অথচ ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ বাধ্যতামূলক হলেও আইসিডিডিআর,বি-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে বিক্রি হওয়া ড্রামের তেলের ৬৫ শতাংশের মধ্যে ৫৯ শতাংশে ভিটামিন ‘এ’ একেবারেই নেই এবং ৩৪ শতাংশে তা প্রয়োজনের চেয়ে কম।

এছাড়া, এসব তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হয় পুরোনো, নন-ফুড গ্রেড ড্রাম; যেগুলো আগে কেমিক্যাল বা শিল্পপণ্য রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো। এতে ভেজালের আশঙ্কা যেমন থাকে, তেমনি জনস্বাস্থ্যের জন্যও তা বিপজ্জনক। এসব ড্রামে কোনো উৎস বা মানসংক্রান্ত লেবেল না থাকায় উৎপাদক বা সরবরাহকারীকে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, "শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২২ সালের জুলাই থেকে খোলা সয়াবিন তেল এবং ডিসেম্বর থেকে খোলা পাম তেল বিক্রি বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।"

কর্মশালায় আলোচকরা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’-এর অভাব শিশু অন্ধত্ব, হাড় ক্ষয়, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সাশ্রয়ীভাবে এই ভিটামিন সরবরাহে ভোজ্যতেল সমৃদ্ধকরণ কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অধিকাংশ ভোজ্যতেলই এমন প্লাস্টিক বোতলে বাজারজাত করা হয় যেগুলো আলো প্রতিরোধ করতে পারে না। ফলে সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে পড়ে ভিটামিন ‘এ’ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই তারা অস্বচ্ছ ও আলো প্রতিরোধী উপকরণে প্যাকেজিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক এস এম আবু সাঈদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার ও ব্র্যাকের আবু আহমেদ শামীম।

এসআইবি/এমআই

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন