Logo

রাজনীতি

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনসিপির

Icon

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০০:০৯

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনসিপির

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের দফায় দফায় বাধার মুখে হবিগঞ্জ শহরে পৌঁছাতে পারেননি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে অবস্থান ছেড়ে হবিগঞ্জের বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ দিয়ে চলে গেছেন তারা।

মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পরে প্রায় চার ঘণ্টা পর হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন এনসিপির নেতারা। 

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন এনসিপির নেতারা। পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়িবহর থামিয়ে দেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থানের পর বিকাল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে তারা আবার হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন।

পরে মুছাই এলাকায় আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং সংসদ সদস্য মাহমুদা আক্তার মিতুসহ দলের নেতারা। 

রাত ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে অভিযোগ দায়ের করেন এনসিপির নেতারা। অভিযোগের বাদী হন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তানভীর রুয়েল। অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে তাদের গাড়িবহর পুলিশ আটকে রাখে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মামলা করতে হবিগঞ্জ থানায় যেতে চাইলে পুলিশ তাতেও বাধা দেয়। শেষ পর্যন্ত রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসেই অভিযোগ দিতে বাধ্য হন তারা। তার দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দিয়ে বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করেছে।

এদিকে, কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। একই দিন বিকালে হবিগঞ্জ শহরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা করে জেলা যুবদল।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এনসিপির নেতারা ১৪৪ ধারা অমান্য করে শহরে প্রবেশ করে সমাবেশ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কামাইছড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।

বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, এনসিপির নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। চারজন নেতা উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে মঙ্গলবারের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ফিরে গেছেন। পরিবেশ এখন শান্ত রয়েছে।

অভিযোগ দায়েরের পর রাত পৌনে ৯টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নাহিদ বলেন, পুলিশ যদি তার নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে চায়, শেখ হাসিনার সময় যে দলীয়করণ সেখান থেকে তাদের ইমেজ যদি উদ্ধার করতে চায়, তাহলে অবশ্যই এ ঘটনার যথাযথ বিচার হতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বুধবার রাতের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। আসামিরা কোনোভাবে যাতে পালিয়ে যেতে না পারে। আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করা হলে ধরে নেওয়া হবে যে এখনো দেশে কিছু পরিমাণ হলেও ন্যায়বিচার আছে। আর না হলে ধরে নেওয়া হবে, এটি আবারও একটা মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

নাহিদ আরও বলেন, আমরা বুঝতে পারছি এই সরকার পুরোনো স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে। অগণতান্ত্রিকভাবে তারা ক্ষমতায় থেকে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা গণভোটের গণরায় মানে নাই। তারা স্বাধীন পুলিশ কমিশন করে নাই। অর্থাৎ তারা সন্ত্রাসনির্ভর একটি রাষ্ট্র তৈরি করতে চাচ্ছে, যেটা আগে ছিল সেটাকে তারা অব্যাহত রাখছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকালে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় দলটি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন